এতো কিছু বলার আছে যে আরো বেশি শব্দহীন হয়ে গেছি। কীভাবে কোথা থেকে শুরু করব বা কোনটা রেখে কোনটা বলব বা আদৌ কিছু বলব কী-না তাও বুঝতে পারছি না। সবথেকে বড় ব্যাপার হলো, আমি খুব বুঝে গেছি আমার কথারা গুরুত্বহীন, ঠিক আমার মতো-ই। যেমন এই পোস্ট লেখা বা না লেখা দুইটাই সমান।
আপনি যদি ওভাবে সুইসাইডাল ফীল না করতেন, না বলতেন ওভাবে আপনার ডিপ্রেশনের ব্যাপারে। তাহলে “Mastermind তোমাকে খুব ভালোবাসে, কিছু করে ফেললে পরে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবা তো? ইগো না রেখে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নাও” এই টাইপ কথা শুনেও আমি নিজের জীবন নিয়ে ভালো থাকতে পারতাম।
কিন্তু… আমি যে সব শেষ করে ফেললাম, নিজেকে ক্ষমা করতে পারি যাতে।
আমি দিন রাত খুঁজে গেছি যে কিছু পাওয়া যায় কী না, সত্যি যদি কিছু করে বসে! এতোকিছু হয়ে গিয়েছে, এতো, এতো… তাই তো “অতো দেরি” হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি কীভাবে জানবো ওসব আপনার মিথ্যা গল্প? সব তো আমার বোকামি, ভার্চুয়ালের কার না কার পোস্টে (তাও আবার anonymous) এতোটা বিশ্বাস করাটা হাস্যকর। এমনকি ফেইসবুক পেইজেও ছিল হাত কাটার ছবি…! আরো ছিল… থাক সেসব কথা, কতোটা ভয় পেয়েছি আর মানসিক প্রেশারাইজড হয়েছি সেটা আমি-ই জানি। অথচ না তাকে আমি চিনতাম, না সে আমাকে! আর আমাদের তো ওরকম সম্পর্কও ছিলো না। ভেবেছিলাম, না জানি কতোজন এমন জানে… কিছু সত্যিই হয়ে গেলে তখন? কীভাবে বুঝাবো আমি? কতোটা ভয়ংকর পরিস্থিতি ছিল আমার জন্য!
তবুও গেলাম সেই মানুষটার সাথে contact করতে যে আমাকে “loving you was one of the….” লিখে অপমান করে আবার অন্যদের কাছে বলছে, “এক্সের কথা সারাক্ষণ মনে পড়ে, সামনে HSC, পড়তে পারছি না!”, “সুইসাইড করতে পারছি না, শুধু একবার Octarine এর সাথে কথা বলতে চাই মরার আগে” এই সেই কতো কী! ওমা, গিয়ে দেখি অন্য সুর! ‘ওসব নাকি পাঁচ সাত মাস আগে ছিলো, এখন আর নেই!’
Contact করার পরও নিজে আমাকে কী পরিমাণ আজেবাজে কথা বলে আবার তার জন্য আমাকেই দোষ দিয়ে চলে গেল। আমি তো তখনও ভেবেছিলাম নতুন করে সবকিছু শুরু করা যাবে হয়তো… তারপর আবার পোস্ট! সে বলল তার ভুল হয়েছে ওভাবে চলে যাওয়া। আবার সেই mental pressure and torture, blaming, gaslighting… একেকসময় একেক কথা বলা! আর বাজে ব্যবহার তো আছেই৷ তাও মেনে নিলাম। এরপর শুরু হলো, “কী দিতে পারবি তুই আমাকে? নোটস?” গালাগালি “মদ দে সাকি” আরো অনেক কিছু। প্রতিবারই নাকি ‘আমি ওমন করেছি তাই সে এমন করছে’! আপনার লাইফে অনেক সমস্যা, এই সেই, বললেন, “এভাবে থাকলে থাক, না থাকলে নাই!” সবকিছু মেনে সহ্য করতে করতে… ততোদিনে নিজেকে শেষ করে গেছি আরো বেশি করে। বাসায় এক্সপ্লানেশন চেয়েছে আমার নেওয়া ক্যারিয়ার ডিসিশনের আমি দিতে পারিনি। বলেও দিয়েছে তারা আমাকে সাপোর্ট করবে না। সেটাই যৌক্তিক। এতোটা একা হয়ে গিয়েছিলাম আমি। কারণ আমিও মেনে নিয়েছিলাম ভুল সব আমার তাই শাস্তিও পাওয়া উচিৎ আমার। কোনো ব্যাক আপও রাখিনি আমি। আর সে ভাবছে আমি বোধহয় পড়াশোনা করে সবজায়গায় এক্সাম দিয়ে যাচ্ছি!
লাস্টবার তো ১৯ ঘন্টা একটানা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, তারপর বুঝলাম আপনি আবারও নিশ্চয় অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছেন।
রাতে আপনাকে শেষমেশ বিজ্ঞ তে পেলাম, আপনি বললেন ”একই পাথরে ধাক্কা খেতে চাই না।” ‘আবেগে পড়ে ভুল করে ফেলেছিলাম, ভুলে যাও সব!’ তারপরও আপনাকে অনেক অনুরোধ করে আবার ডিসকোর্ডে…
তখন ভোর, খুব ঝড় হচ্ছিলো, ঠিক যেমনটা আমার মধ্যেও…
সেদিন সকালেও কথা হয়েছিল… দুপুরে বাইরে গেলাম, হিটস্ট্রোক করলাম- এটা এতো সিরিয়াস কিছু না। কিন্তু তখন ওই অবস্থায় ব্যাপারটা সিরিয়াস হয়ে গেল অনেক….অনেক…. পরে আমি গিয়ে দেখি সব ম্যাসেজ ডিলিট…
এ আপনার কেমন ভালোবাসা, 🌊?
মিথ্যা বড্ড মধুর লাগে!
আর চাইব না, আর না, আশা, স্বপ্ন সবকিছুর বিসর্জ্জন তো সেই কবেই দিয়ে দিয়েছি… পেলে যেভাবেই হোক ঠিকই পাবো, না পেলে নাই… ইচ্ছা থাকলে সে নিজেই চেষ্টা করবে, আর আমি পারছি না এভাবে।
আপনার কোনো দোষ নেই এতে, আমার আছে। অনেক, অনেক দোষ। সেই প্রথম যেদিন আপনি আপনার মা মৃতা এমন *জোকস* বলেছিলে, সেদিন আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম আর আপনি আমাকে একটা শব্দ বলেছিলেন। সেইদিন আমি চলে গিয়েও যাইনি। আমার দোষের শুরু। আপনাকে সুযোগের চরম অপব্যবহার করতে দেখেও আমি সুযোগ দিয়ে গেছি, দিয়ে যাচ্ছি। অনেক কিছু দেখেও চুপ করে থাকি। আপনার এতে কোনো-ই দোষ নেই। আপনার ব্রেইন বুঝে গেছে আমার দুর্বলতা, আপনি যা-ই করুন না কেন, যা-ই বলুন না কেন, আপনার কিছু হয়েছে বা আপনি কষ্ট পাচ্ছেন জানলে আমি ফিরে আসবই…
যতোবার সল্যুশন চেয়েছি, ক্লারিটি চেয়েছি, ততোবার আমি নাকি তাকে ‘কমিটমেন্টের জন্য প্রেশার’ দিয়েছি আরো অনেক কিছু শুনলাম! যার চিন্তাভাবনা যতো দূর যায় আরকি!
একবারও বোঝার চেষ্টা করেননি কতোটা ভয় পেয়ে ছিলাম আমি তখনও… চিনি না বাস্তবে, ইনফো জানার পর হঠাৎ করে উধাও হলে কি করব? অনলাইনে একের পর এক হচ্ছিলো আমার সাথে। আর বাস্তবে কী হচ্ছিল সেটাও তো বলেছিলাম।
এরপরও সে বারবার চলে গিয়েছে আর আমি আটকিয়ে গিয়েছে যতোক্ষণ না সে আমার শেষ চেষ্টাতেও কো-অপারেট না করে বলেছে, “আমাদের মাঝে বন্ধুত্বও সম্ভব না!”
আমি চলে এসেছি।
এরপরও পোস্ট! হাহাহাহা! কতোরকম পোস্ট, আমি চুপ করে দেখে গিয়েছি। একদিন ওই পোস্টটা “অমুক ফ্রম Govt. M M College” I have your info but I am not gonna do anything bad to you. I am just checking to know the authenticity of yours. bla bla…
হ্যাঁ ইনফো আমি সত্যিই দিয়েছিলাম, এখনো দিই। কিন্তু সেই সত্যের মূল্য, মিথ্যার চাদরে কনফিউশান সৃষ্টিকারী কীভাবে দেবে?
আমি সেদিন যে কতোটা ভয় পেয়েছিলাম, তারপর থেকে আর না তো পোস্ট দেখেছি না তো ঘুমিয়েছি। ৩-৪ দিন পরপর ৫ ঘন্টা করে। আমার যাও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ছিল সব ডিএক্টিভেট, ইউজার নেইম চেঞ্জ।
তারপর একসময় একটু একটু করে ঘুমানোও শুরু করলাম। এরপর আবার সেই পোস্ট! কিন্তু আমি তো এখন জানি, এই পোস্টের আবেগ সব মিথ্যা। মিথ্যা আবেগ সত্য/বাস্তব মানুষকে নিয়ে লিখতে নেই। কিন্তু আমি তো তার কাছে মিথ্যা/অবাস্তব মানুষ। আমার কোনো সমস্যা নেই, থাকতেই পারে না! যখন সে মিস করবে তখন আসতে হবে, নয়তো তার দু’দিন/দু’মাসের ভালোলাগারা আর থাকবে না! আসার পর সবসময়… থাক, থাক! মানুষ কীভাবে পারে? ঠকানো কি শুধুই “সেক্স করে চলে যাওয়া”? তার ফ্যান্টাসি আমি না থাকলে আমাকে মিস করা আর তাই নিয়ে লিখে মানুষকে দেখানো, ‘আমি বড্ড অভাগা, একটা মানুষকে এতো ভালোবাসি কিন্তু সে আমাকে ভুল বোঝে…’ ‘ভাগ্যে নেই’ হাহাহাহা! আর এই মিথ্যা মিথ্যা আবেগের পোস্ট লিখে আমাকে মানসিক ম্যানিপুলেশন, টর্চার… এগুলা কী? নিজেই বলে বেড়াতেন আপনার এক্স দের কথা (হয়ত তারাও আমার মতোই কেউ ছিল যাদের সাথেও…) আর একদিন আমি একটু বলেছিলাম আপনি তো এ ব্যাপারে এক্সপার্ট, তাও মজা করেই, আর সেটার জন্য আমাকে দোষ দেন, এই এখনো! এসব কি?! কোন ধরনের এগুলো? সবসময় সব দোষ আমার ছিল, আর তাই ই থাকবে। Anonymous website এ নিজে পোস্ট দিয়ে গালি খেয়েও আপনি আমাকে দোষ দিয়েছেন, আমার জন্য নাকি মানুষ আপনাকে গালি দিচ্ছে, বলেছিলাম আমি ওখানে লিখতে? কেন আমার সাথে এমন করেই যাচ্ছেন? কেন? এতো সুযোগ দিয়েছি তবুও কিচ্ছু পরিবর্তন হয়নি। যাকে ভালোবেসে রাখতেই পারবেন না, সম্মান পর্যন্ত যাকে দিতে পারেন না। মিথ্যে ওসব আবেগী পোস্ট লিখে তাকে সবার কাছে দোষী, ইগোইস্ট প্রমাণ করে, তার মনে অনুভূতি জাগিয়ে এখন আপনি বলেন যে আপনার সেই ক্ষমতা, সাহস কোনোটাই নেই! বাহ! দারুণ!
আবার এই toxic cycle repeatation তো আছেই। পরীক্ষার আগে contact করা, এরপর messages deletation, তারপর না বলে অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেওয়া।
আপনার সিচুয়েশন আমাকে বললে বুঝিনি আমি? কিন্তু আমার সিচুয়েশন কোন দিন-ই বোঝার চেষ্টা পর্যন্ত করলেন না! এতো যে চেষ্টা করেছি, করে যাচ্ছি এখনো… সব বৃথা! একার চেষ্টায় আর কি হয় যদি আরেকজনের ইচ্ছা-ই না থাকে? তাই তো চলেই গিয়েছিলাম, মনে হচ্ছিল এভাবে তো না চাইতেও জোর-জবরদস্তি হয়ে যাচ্ছে একরকম। কিন্তু তার নাকি ‘পরিস্থিতি বদলিয়েছে আগের থেকে’! কেন সব ডিলিট দিয়ে চলে যেত তার ‘কারণ’ও শুনলাম। এইবারও বুঝি সেই কারণ?! তাহলে পরিস্থিতি বদলালো কই?
আর বিশ্বাসের প্রশ্ন যদি করেন তাহলে এটাও জানা উচিৎ মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা কীভাবে রাখতে হয়।
আপনার উপর আমার সত্যিই কোনো অভিযোগ নেই আর… অভিযোগ এখন আমার উপরেই, আমার ডিসিশন, আমার বোকামি, বারবার একই ঘটনা ঘটার পরও তার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে সেই তাকেই বিশ্বাস করার চেষ্টা করা। মনে প্রশ্ন জাগলেও এটা ভাবা, “হতেও তো পারে!” নিজের করা ভুল থেকে শিখিনি আমি, নিজেকে দোষী ভেবে শুধু শাস্তি দিয়েই গেছি। নিজের কষ্ট টা বলেছি বটে কিন্তু ভেবেছি কিছু ব্যাপারে ত্যাগ, কষ্ট সহ্য করাই লাগে। একবারও বুঝিনি, বুঝার চেষ্টা করিনি যে, যে ‘কিছুর’ জন্য এতো করছি সেই কিছুর আসলে কোনো অস্তিত্ব-ই নেই!
কি করেছিলামটা কি আমি? আপনিও তো আপনার ডিপ্রেশন, সুইসাইডাল থটস শেয়ার করতেন, প্রোফাইল পিক দিতেন ওরকম, একবার তো বলছিলেন… কখনো তার জন্য বাজে ব্যবহার করেছি? আমি তো আরো বুঝতে চেষ্টা করেছি, ভেবে নিয়েছি মানুষটা কতোটা পরিস্থিতির শিকার হলে এমন ভাবছে, অচেনা একজনকে একটু বিশ্বাস করে বলছে। আর কি করেছি আমি যে আমার সাথেই এমন করা লাগলো যাতে আমি নিজেই এখন ‘এমন’ ভাবতে থাকি। ভাবতে পারেন, কতোটা খারাপ বোধ করলে আমি, এই আমি ‘এমন’ ভাবি?
মানছি সাফার দুই জনেই কম করিনি, করছি না। কিন্তু যখনই কোনো negotiation এ আসতে চেয়েছি, কখনো কো অপারেশন পাইনি। উল্টা শুনতে হয়েছে আমার যা ভালো মনে হয় যেন তাই করি। কিন্তু করার পরও কথা শুনতে হইছে! এরকম করে কীভাবে হয়?
এসব কী একজনের জীবন নিয়ে খেলা নয়? কোন ধরনের হয়রানি এটা? অন্য কারো সাথে এই সেইম কাজ-ই করে দেইখেন তো…
“I don’t need your games, game over!
Get me off this rollercoaster…”
“দুঃসময়টা হয়তো একদিন ঠিক-ই চলে যাবে, কিন্তু আপনাকে তো আমার ‘চেনা’ হয়ে গেল!”
ভয় ভয় আর ভয়! আমার ইনফো আছে তার কাছে, যা তা লিখবে, করতে পারে… ভয় পেয়েই তার প্রতি অনুভূতির শুরু হয়েছিল, যাতে সে ‘কিছু’ না করে বসে! আর এখন আজ যখন আমার পায়ের নিচে মাটি নেই আর তার এই নিচু খেলায় আর কিছু পরিণামে আমি বড্ড ক্লান্ত হয়ে মৃত্যু চাই তখন আমাকেই শুনতে হয় নোংরা কিছু গালি যা আমাকে জীবনেও শুনতে হয়নি। বিভীষিকা! এসবের জন্যও নাকি আবার আমি-ই দায়ী! আপনার বানানো এই মিথ্যা মিথ্যা গল্পের অংশ হবার কোনো ইচ্ছা আমার নেই!
